
বেড়েছে আকাশপথের টিকিটের দাম
- আপলোড সময় : ২৩-০১-২০২৫ ০৪:৫৯:২৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৩-০১-২০২৫ ০৪:৫৯:২৯ অপরাহ্ন


বেড়েছে আকাশপথের টিকিটের দাম। বিমান সংস্থাগুলো দেশি-বিদেশী গন্তব্যে উড়োজাহাজের টিকিটের দাম বাড়িয়েছে। ফলেনতুন করে টিকিট কিনতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি দাম। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর আকাশপথে বিমান ভ্রমণে আবগারি শুল্ক বাড়ানোয় বর্ধিত ওই শুল্ক টিকিটের দামের সঙ্গে যুক্ত করে বিমান সংস্থাগুলো নতুন দামে টিকিট বিক্রি শুরু করেছে। অভ্যন্তরীণ পথে সরকার বিমানযাত্রায় আবগারি শুল্ক ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করেছে। আর সার্কভুক্ত যেকোনো দেশ ভ্রমণে আবগারি শুল্ক ৫০০ থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করা হয়েছে। সার্কভুক্ত দেশের বাইরে এশিয়ার মধ্যে যেকোনো দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক দুই হাজার থেকে বাড়িয়ে আড়াই হাজার টাকা এবং ইউরোপ ও আমেরিকার দেশ ভ্রমণে তা এক হাজার বাড়িয়ে চার হাজার টাকা করা হয়েছে। বিমান সংস্থা ও ট্রাভেল এজেন্টদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ পথে এতোদিন একেকটি টিকিটে সব মিলিয়ে ৯৭৫ টাকা শুল্ক-কর ছিলো। তা বেড়ে এখন ১ হাজার ১৭৫ টাকা হয়েছে। আবার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াগামী প্রতিটি টিকিটে এতো দিন সাড়ে ১২ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকা শুল্ক-কর ছিলো; এখন তা বেড়েছে। চারজনের একটি পরিবার থাইল্যান্ডে যেতে চাইলে তাঁদের আগের চেয়ে দুই হাজার টাকা বেশি শুল্ক-কর দিতে হবে। তবে যারা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন জারির আগে টিকিট বুকিং দিয়েছে বা অগ্রিম টিকিট কেটেছে, তাঁরা নতুন শুল্কের আওতামুক্ত থাকছে। কোম্পানিগুলো বলছে, যাঁরা আগাম টিকিট কেটে রেখেছে, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন শুল্ক আরোপ করা বাস্তবসম্মত নয়। সূত্র জানায়, আকাশপথে শুল্ক বাড়ানোর ফলে দেশীয় বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলো সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়বে। বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট পরিচালনা করে। এর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা, নভোএয়ার ও এয়ার অ্যাস্ট্রা। ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, রাজশাহী, যশোর, সৈয়দপুর ও বরিশাল- ওই আটটি পথে প্রতিদিন ওসব বিমান সংস্থার শতাধিক ফ্লাইট চলাচল করে। কিন্তু সরকার এখন অভ্যন্তরীণ পথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক ২০০ টাকা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করেছে। অর্থাৎ প্রায় ৪০ শতাংশ শুল্ক বেড়েছে। যা অস্বাভাবিক। সূত্র আরো জানায়,আকাশপথে যাতায়াত এখন আর শৌখিন সেবা নয়। অনেকটা প্রয়োজনীয় সেবা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে এমনভাবে নীতি পরিবর্তন দেশের সব বেসরকারি বিমান সংস্থার জন্য একটি গভীর ক্ষত তৈরি করবে। দেশীয় বিমান প্রতিষ্ঠানগুলো আশপাশের দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট পরিচালনা করে। আর শীতের মৌসুমে পর্যটনের চাহিদা বেশি থাকে। স্বাভাবিক সময়ে শীত মৌসুমে ভারতে প্রচুর পর্যটক যায়; কিন্তু বর্তমানে দেশটিতে পর্যটন ভিসা বন্ধ থাকায় যাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। সেজন্য এয়ারলাইনসগুলো ধুঁকছে। তাছাড়া বর্তমানে ডলারের দাম আগের তুলনায় বেশি। ফলে নতুন করে শুল্ক বাড়ানোর কারণে টিকিটের দাম আরো বেড়েছে। শেষ পর্যন্ত ভুক্তভোগী হচ্ছে ভোক্তারা। এ প্রসঙ্গে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম জানান, দেশীয় বিমান সংস্থাগুলো সাধারণত জুলাই মাস (অর্থবছর) ধরে ব্যবসার পরিকল্পনা সাজায়। কিন্তু বছরের মাঝপথে হুট করে আবগারি শুল্ক বাড়ানোয় ব্যবসা ও ভোক্তা পর্যায়ে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পর্যটনের ভরা মৌসুমে পর্যাপ্ত যাত্রী থাকায় এখনই হয়তো বিমান সংস্থাগুলো ওই প্রভাব টের পাবে না। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো অফ সিজনে শুল্ক বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব বেশি টের পাবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ